লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
ক্যাটেগরি: আন্তর্জাতিক ও অভিবাসন
সময়: ১৩ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার যে প্রবণতা, তা ঠেকাতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্ম পর্যটনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব চক্র গর্ভবতী নারীদের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলির মতে, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প একটি বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে বলা হয়—বাবা-মায়ের কেউ যদি মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তবে তাদের সন্তানকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। যদিও এই আদেশটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তবে প্রশাসনের নতুন তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা এই প্রক্রিয়াটি বন্ধে মরিয়া।
২০১৬-১৭ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বিদেশি নারী এই উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যান। যদিও ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ৩৬ লাখ শিশুর তুলনায় এই সংখ্যা খুবই কম, তবুও রিপাবলিকানরা বিষয়টিকে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু যদি পর্যটক ভিসার আবেদন করার সময় সত্য গোপন করা হয় (অর্থাৎ সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্য লুকিয়ে অন্য কারণ দেখানো হয়), তবে সেটি ‘ভিসা জালিয়াতি’ হিসেবে গণ্য হবে। আর এখানেই ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।
| বিষয় | ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান পদক্ষেপ |
| ভিসা যাচাই | গর্ভবতী নারীদের ভিসা আবেদনে তথ্যের সত্যতা কঠোরভাবে যাচাই। |
| তদন্ত সংস্থা | হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI) বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। |
| আইনি অবস্থান | জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করলে কারাদণ্ড ও ব্ল্যাকলিস্ট। |
| বর্তমান অবস্থা | জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। |
২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসন যে নীতিমালা চালু করেছিল, তার ধারাবাহিকতায় এখন তদন্ত আরও জোরালো হচ্ছে। ইতিপূর্বে ২০১৯ সালে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় এ ধরনের একটি চক্রের সদস্যদের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল। ফলে যারা যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের পরিকল্পনা করছেন, তাদের আইনি বিষয়গুলো সঠিকভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।
আপনার মতামত: আপনি কি মনে করেন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার এই সাংবিধানিক অধিকার কি ট্রাম্প প্রশাসনের বাতিল করা উচিত? কমেন্টে আপনার যুক্তি জানান।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |